রোনালদোর জোড়া গোলে রিয়ালের দুর্দান্ত জয়

বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের এই জয়ে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল জিনেদিন জিদানের দল।

আর্তুরো ভিদালের দারুন হেডে এগিয়ে যাওয়া বায়ার্ন বিরতির আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো চিলির এই মিডফিল্ডার পেনাল্টি মিস না করলে। বিরতির পর পরই সমতা ফেরান রোনালদো। এক ঘণ্টা পার হতেই দশ জনের দলে পরিণত হওয়া স্বাগতিকরা এরপর আর রিয়ালকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত রোনালদোর দ্বিতীয় গোলে হার মানতে হয় কার্লো আনচেলত্তির দলকে।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটা পেয়েছিল অতিথিরাই। ডান দিক থেকে টনি ক্রুসের ক্রসে বেনজেমার হেডে বল ক্রসবারে লাগে। নয়ার লাফিয়ে বলে আঙুল না ছোঁয়ালে তা জালেই ঢুকতো।

এ মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ৩৮ গোল করা তারকা স্ট্রাইকার রবের্ত লেভানদোভস্কিকে ছাড়া খেলতে নামা বায়ার্ন সেট-পিসে এগিয়ে যায় ২৫তম মিনিটে। থিয়াগো আলকানতারার কর্নারে লাফিয়ে উঠে নেওয়া ভিদালের জোরালো হেড ঠেকানোর সুযোগ পাননি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস।

৪০তম মিনিটে ডান দিক থেকে আরিয়েন রবেনের ক্রসে আবার লাফিয়ে হেড করেছিলেন চিলির মিডফিল্ডার ভিদাল। এবার বল যায় পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে।

দুই মিনিট পর বায়ার্নের ত্রাতা নয়ার। রামোসের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সের একটু বাইরে থেকে রোনালদোর শট ডানে ঝাঁপিয়ে ঠেকান জার্মান এই গোলরক্ষক।

বিরতির ঠিক আগে ক্রসবারের উপর দিয়ে মেরে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন ভিদাল। ফ্রাংক রিবেরির শট দানি কারভাহালের বুকে লাগলেও হ্যান্ডবল নির্দেশ করে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই রিয়ালকে সমতায় ফেরান রোনালদো। ডান দিক থেকে কারভাহালের নিখুঁত ক্রসে ডান পায়ের ভেতরের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে কাটান গোলখরা।

গত সেপ্টেম্বরের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল পেলেন রোনালদো; সময়ের হিসেবে মাঠে প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর।

৫৬তম মিনিটে নয়ারের দৃঢ়তায় রিয়ালকে এগিয়ে দিতে পারেননি গ্যারেথ বেল। ডান দিক থেকে লুকা মদ্রিচের ক্রসে কাছ থেকে ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ডের হেড ঠেকিয়ে আরেকবার বায়ার্নের ত্রাতা নয়ার।

এক ঘণ্টা পার হতেই পাল্টা আক্রমণে ওঠা রোনালদোকে মাঝমাঠের কাছে অযথা ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হাভি মার্তিনেসকে।

বাধ্য হয়েই রক্ষণাত্মক খেলতে হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আগের ১৬টি ম্যাচ জেতা বায়ার্নকে। এই সুযোগে রিয়ালের আক্রমণ জোরালো হয় আরও।

৭৩তম মিনিটে আবার নয়ারের দুর্দান্ত সেভ। এবার বেনজোমার হঠাৎ করে নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান তিনি।

৭৫তম মিনিটে আবারও নয়ার। এবার রোনালদোর জোরালো শট ঠেকান ডান হাত বাড়িয়ে। তবে দুই মিনিট পর ঠিকই রিয়ালকে এগিয়ে নেন রোনালদো। মার্কো আসেনসিওর ক্রসে পা বাড়িয়ে বুটের তলা দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে তুলে নেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার ৯৭তম গোল। আর উয়েফার ক্লাব প্রতিযোগিতার হিসেবে সব মিলিয়ে পূর্ণ হলো গোলের শতক।

শেষ দিকে রিয়াল অধিনায়ক সের্হিও রামোসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। তবে সর্বোচ্চ ১১ বারের চ্যাম্পিয়নরা আরেকটি শিরোপার লক্ষ্যে আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়েই মাদ্রিদ ফিরছে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দ্বিতীয় লেগে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষায় কঠিন পরীক্ষাই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: